পৃষ্ঠাসমূহ

চারিত্রিক উন্নয়ন এবং আত্ম পরিশুদ্ধি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
চারিত্রিক উন্নয়ন এবং আত্ম পরিশুদ্ধি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

একাকিত্বঃ একটি অভিশাপ এবং মুক্তির উপায়...



প্রশ্নঃ আমি মানুষের সাথে মেলামেশা সহ্য করতে পারিনা এবং একাকি থাকতে পছন্দ করি যখন আমি অন্যদের সাথে মেলামেশি করি তখন মনে হয় যেন চরম সঙ্কটপূর্ণ অবস্থায় আছি রাসূল (সঃ) আমাদের মসজিদে সালাত আদায় করার আদেশ দিয়েছেন আমার কি করা উচিত? মসজিদে প্রার্থনা করার চেয়ে না করাই আমার কাছে শ্রেয় হয়ে দাড়িয়েছে


উত্তরঃ সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীনের


প্রথমতঃ

যে অবস্থার মধ্যে দিয়ে আপনি যাচ্ছেন এটা শুধু মাসজিদে সালাত আদায় করার ক্ষেত্রেই না বরং এটা আপনার অনান্য কর্মকান্ড করার সময়ও, যেগুলো আপনাকে বাসার বাইরে যেয়ে করতে হবে  যেমন; আপনার আত্নীয়দের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য, আপনার প্রয়োজনীয় অর্থ উপার্জন করতে, জ্ঞান অর্জন করার ক্ষেত্রে, সৎ কাজের আদেশ এবং অন্যায় কাজের নিষেধ করা এবং এই রকম আরো অনেক ক্ষেত্রে

“তিনটি বাড়ী এবং একজন চোর”

ইবনে কাইয়্যিম (রহঃ) তাঁর “আল ওয়াবিলু সাইয়িব” বই এ বেশ চমৎকার একটা কথা বলেন ।
 
.........প্রকৃতপক্ষে একজন বান্দা সালাতে খুশু বৃদ্ধি করতে পারবে যদি সে তার ইচ্ছা আকাংখা এবং প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে । কিন্তু সে যদি প্রবৃত্তির দাশ হয়ে পড়ে এবং শয়তান তার অন্তরে বাসা বাঁধে তাহলে সে কি করে সালাতের সময় শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে নিজেকে রক্ষা করে সালাতে মনোযোগ দিবে?
 
মানুষের অন্তর সাধারনত তিন ধরনের হয় ।

"আমার ঈমান কি আমার কাছে ফিরে আসবে?"



প্রশ্নঃ কিছু বছর ধরে আমি ইসলাম পালন করে আসছিলাম কিন্তু কয়েক মাস ধরে আমি অনুভব করছি যে আমার হৃদয় ও অন্তরে ঈমান ও আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নেই বললেই চলে। এই বিষয়টা আমাকে পীড়িত করছে এবং আমি নিজেকে বললাম যে সম্ভবতঃ এটা শয়তানের ধোঁকা অথবা এইরকম কোন কিছুর কারনে হয়েছে এবং রমাদান আসলে এটা চলে যাবে। কিন্তু এটা চলে যায় নি এবং আমি দেখছি যে আমার কিয়ামুল লাইল (রাত্রিকালীন সালাত) আদায় করতে কষ্ট হচ্ছে। এই ওয়াসওয়াসা (কুমন্ত্রণা) সত্ত্বেও আমি অধিক কুরআন পড়তে চেষ্টা করেছি এবং এই কুমন্ত্রণা আমার ক্ষতি করে চলছে। আমার অবস্থা আমাকে সামাজিকভাবে, কর্মক্ষেত্রে, পরিবারে এবং আমার দ্বীনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই কারনে আমি নিদারুন কষ্টের মধ্যে আছি এবং আমার ঈমানকে খুঁজে পাচ্ছি না, যেন তা আমার থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমার মনে হচ্ছে যে আমার একটা খারাপ সমাপ্তি হবে এবং আমার ঈমান আর কখনো ফিরে আসবে না এবং আমার হৃদয়ে মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে। আমি মসজিদে সালাত আদায় ছাড়িনি – কিন্তু যখনই আমি মসজিদে যাই, আমার মনে হয় যে আমি অন্য ইবাদতকারীদের মত নই এবং আমি তাদের ঈমানের কারনে তাদেরকে ঈর্ষা করি। আমার আরো মনে হয় যে আমার দ্বীন আমার থেকে চলে গিয়েছে এবং খুব কষ্ট করা ছাড়া আমার কুরআন অথবা হাদীস অথবা আলেমদের লেকচার টেপ শোনা হয় না। আমি আগের মত হতে চাই, একজন মুমিন যে দ্বীনকে ভালবাসে কারণ তা সত্য দ্বীন কিন্তু আমার মনে হচ্ছে যে আমি আমার অন্তর অথবা আমার অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। আমি আমার গুনাহ সম্পর্কে চিন্তা করা শুরু করেছি যেটি আমার বিশ্বাস যে আমার এই অবস্থার কারণ এবং আমি অনেক গুনাহের কথা মনে করতে পারছি যেগুলো আমি ভুলে গিয়েছিলাম, যেন তারা একের পর এক আমার সামনে আসছে। এখন পর্যন্ত আমি এইরকম কষ্ট, দুর্দশা ও যন্ত্রনার মধ্যে আছি। আমি জানিনা আমার কি হয়েছে এবং এর প্রতিকার ও সমাধান কি। , নাকি এটা হবে একটা খারাপ সমাপ্তি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি? সবশেষে, অনুগ্রহ করে আমার জন্য দুয়া করতে ভুলবেন না।

মাঃ বীর তৈরির কারিগর


পরম করুনাময়, দয়ালু আল্লাহর নামে।

“... একটি প্রজন্ম গঠনে মায়ের ভুমিকা অনেক । সন্তান পালনে মা যত ভাল হবে, উম্মাহ তত সফলভাবে তৈরি হবে । আর ততই ভাল বীর তৈরি হবে । আপনি এমন কোন মহান লোক পাবেন না যেখানে তার পেছনে একজন মহান নারীর অবদান নেই, যার ব্যক্তিত্বে তার মায়ের কিছু বৈশিষ্ট্যের ছাপ থেকে যায় তার দুধপান ও তার উষ্ণতার বন্ধনে আশ্রয় নেয়ার মাধ্যমে

বেশিরভাগ মানুষই তার মায়ের সাথে থাকা সেই উজ্জ্বল স্মৃতিগুলো মন থেকে মুছে ফেলতে পারে না শিরায় শিরায় প্রবাহিত ছোটবেলার সেসব অসাধারন স্মৃতি তার মনে গভীর দাগ কাটে এবং সেসব সে গভীর শ্রদ্ধা ও গর্বভরে স্মরণ করে সে তার মায়ের সরল সহজ কথাগুলো স্মরণ করে যা তার উদ্দেশ্য অর্জনের পথে মাইলফলক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে

দাড়ি কামানো – আধুনিক মেয়েলিপনা


রহমান ও রহিম, দয়ালু আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে


সংজ্ঞাঃ গাল ও গালের নিচের অংশে হওয়া চুলকে দাড়ি (আরবীতে লিয়াহ) বলা হয়। কপালের পাশে, নিচের ঠোঁটের আশপাশে, থুতনি ও চোয়ালে গজানো চুলও দাড়ির অনর্ভুক্ত।  

দাড়ির ব্যাপারে ইসলামের বিধান

যাদের দাড়ি উঠেছে, তা রাখা তাদের জন্য ওয়াজিব (অবশ্য কর্তব্য)সুন্নাহ য় দাড়ির ব্যাপারে পর্যাপ্ত উদাহরণ রয়েছে (নিচে দেয়া হবে) এবং উলামাগন সকলেই এ ব্যাপারে একমত। তাই এখনকার কিছু নতুন নজরে আসা শাইখদের দুর্বল ফতওয়া শুনে আমাদের বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়। কেননা এরা এ কাজটি নিজেদের লাভের জন্যই করছে। আর এটা করে তারা মানুষকে নিয়ে যাচ্ছে ভুল পথে। যখন রাসুল (সা) বলেছেন-

"যে কোন ভাল কাজ শুরু করে, সে পুরস্কার পাবে। সাথে সাথে যারা তার অনুসরন করে তাদের কাজের সমান সওয়াবও রবে তার জন্য। আর যে খারাপ কোন কাজ শুরু করে সেটার বোঝা তাকেই বইতে হবে। সাথে সাথে তাদের কাজের বোঝাও যারা তার অনুসরন করে একই কাজ করেছে।" [মুসলিম]

ইখতিলাফ বা অনুমতিযোগ্য বিষয়ে মতপার্থক্যের আদব।

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে শুরু করছি 

এক মুসলিম ভাই অপর মুসলিম ভাইয়ের সাথে ইজতেহাদগত কোন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও কিভাবে সুসম্পর্ক রক্ষা করবে তার নির্দেশনায় ইসলাম চমৎকার আদর্শ স্থাপন করেছে তাদের জন্য যারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুসরন করতে চায় । আল্লাহ্‌ তায়ালার পক্ষ থেকে আমাদের কাছে রহমত হিসেবে পাঠানো  রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,“উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দানের জন্যই আমাকে পাঠানো হয়েছে ” (ইমাম বুখারীর আদাবুল মুফরাদ,২৭৩ ; শাইখ আলাবানীর মতে সহীহ)।



মতপার্থক্যগত বিষয়ে একে অপরের সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে আদাবসমুহ :

বিভক্তি ও ঐক্যের মূলনীতিঃ কারণ ও ফলাফল


আল্লাহ বলেন যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল তারা মতভেদ করেছিল শুধুমাত্র পারস্পারিক হিংসা ও বিদ্বেষের কারণে, তাদের নিকট সুস্পষ্ট জ্ঞান আসার পরেও এখানে বলা হচ্ছে যে তারা মতভেদ করে ছিল তাদের নিকট এই জ্ঞান আসার পরেই যে, তাদের কি করা উচিত বা কি এড়িয়ে চলা উচিত। বস্তুত আল্লাহ কাউকে বিপথগামী করেন না যতক্ষন না তাকে সুস্পষ্টভাবে বলে দেন তার কি করা উচিত। এখানে বলা হয়েছে যে, তারা মতভেদ করেছিল শুধু মাত্র হিংসা-বিদ্বেষের কারণে। আল-বাগীমানে হল সীমালঙ্ঘন করা, এ ব্যাপারে ইবন উমার রাযিঃ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, “হিংসা ও ঔদ্ধত্ত্বতখনই শুরু হয় যখন ইজতিহাদ হয় ইলম ব্যতীত। কোন স্বীকৃত মতভেদকে আল-বাগী বলেনা যা সাধারণত দুজন স্কলারের মাঝে হয়ে থাকে। আল-বাগী মানে হল প্রত্যাখ্যান করা বা সত্যকে অস্বীকার করা বা সীমালঙ্ঘন করা। আর সীমালঙ্ঘন করা হয় সাধারণত কোন আবশ্যকীয় কাজকে বাদ দেয়ার মাধ্যমে বা কোন নিষিদ্ধ কাজ করার মাধ্যমে।আর এটা জানা কথা যে এই গুলোর ফলেই বিভক্তি ও অনৈক্য শুরু হয়।

অপ্রিয় সত্য ..

 শাইখ আবদুল্লাহ আযযামের নাসীহা 

" একাকী বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। তাই তোমরা কখনো একা থেকো না, কখনো দলছুট হয়ে যেও না। শেয়ালকে দেখেছো? সে কিন্তু দলছুট ভেড়াটিকেই নিজের খাদ্য বানায়। শয়তানও সেরকম, যে দু'জন লোক একসাথে থাকে, তাদের তুলনায় সে একাকী ব্যক্তির অধিক কাছাকাছি থাকে। তাই তুমি যেখানেই থাকো, অন্তত একজন লোককে নিজের সঙ্গী বানিয়ে নাও আর খেয়াল রেখো এই ব্যক্তিটি যেন অবশ্যই পরহেজগার হয়।

কখনও ঝরে যেও না ...

তারিক মেহান্না-এটি মুখে মুখে উচ্চারিত কোন নাম নয়। সঙ্গীততারকা, অভিনেতা-অভিনেত্রী আর ক্রীড়াবিদদের ভিড়ে এ নামটি হয়তো আপনার চোখে পড়ে নি। যারা তার সম্বন্ধে সামান্য জানেন, তারা জানেন, এই মানুষটি নব্য ফির'আউনের কারাগারের ভেতরে বসে অভূতপূর্ব এমন অনেককিছু লিখেছেন, আমরা "সুস্থ-স্বাভাবিক sane" মুসলিমরা জেলের বাইরে বসে সেগুলো ভেবেও দেখি নি !

তার এমন একটা লেখা হচ্ছে Never Shed Your Leaves. এই লেখাটিই বলে দিবে, তারিক মেহান্না আর দশটা মুসলিমের মত নন, তিনি তাদের মধ্যে একজন যাদেরকে আল্লাহ তার দ্বীনের understanding দিয়েছেন। ইসলামের সাথে খুব স্বল্প সংখ্যক মানুষই পারে বাস্তবতাকে relate করে তুলতে, তারিক মেহান্না তাদের একজন। আল্লাহ  আমাদের এই ভাইটির মুক্তি তরান্বিত করুন এবং তার জ্ঞান থেকে মুসলিম উম্মাহর উপকৃত হবার সুযোগ তৈরি করে দিন। আমীন। 

প্রবৃত্তির সাথে লড়াই


“..সুতরাং, তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে লড়ো, তখন, যখন তোমার পক্ষে ইচ্ছাপূরণ করা সম্ভব। মানুষের মন কিছুতেই ভরে না। তাই ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষাকে সুযোগ দেওয়ার অর্থ হলো – এক আকণ্ঠ তৃষ্ণার্ত লোকের সমুদ্র থেকে পানি খাওয়ার মতো। সে যতো বেশি পানি খায়, ততোই তার পিপাসা বাড়তে থাকে, কারণ সমুদ্রের নোনা জলে এই পিপাসা কখনোই মেটার নয়। রোমানদের দেখো, তারা সবরকম খাবার আর মিষ্টি খেতো। কোনোটা বাদ দিতো না। একসময় এমন অবস্থা হলো যে তাদের খাবারের রুচিই চলে গেলো। তখন তারা উপবাস থাকতে শুরু করলো, যাতে আবার খাবারে রুচি ফিরে পায়! তেমনি করে, তারা যৌনমিলনেও এতো বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়লো যে একটা সময়ে নারী দেখলেই তাদের ঘেন্না হতে লাগলো! তখন তারা শহর ছেড়ে দূর-দূরান্তে চলে যেতো, এরপর নারীর প্রতি স্বাভাবিক আকর্ষণ ফিরে এলে শহরে ফিরে আসতো। পশ্চিমারা তো এখন যৌনতাকে এতো সস্তা করে ফেলেছে যে খাদ্য, পানীয়, অক্সিজেনের মতো “যৌনমিলন”ও এখন সর্বত্র বিরাজমান! কিন্তু ফলস্বরূপ কি দেখা যাচ্ছে? অগণিত ধর্ষণের কাহিনী, যৌনতার কারণে ছড়িয়ে পড়া নানান রকম রোগ, ইত্যাদি। এর কারণ হলো, মানুষের খায়েশ কখনো মেটে না। আকাঙ্ক্ষার কোন শেষ নেই। সাধ-আহ্লাদকে যেই না একটুখানি জায়গা দেবে, তারা আরও মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।

আল্লাহর ভয়ে কাঁদা...


শায়খ ওয়াহিদ আব্দুসসালাম বালি এর “আল-খাউফ মিন আল্লাহ” লেকচার থেকে  

যারা মুমিন, তাদের জন্যে কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবর্তীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি? তারা তাদের মত যেন না হয়, যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল তাদের উপর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে, অতঃপর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে গেছে তাদের অধিকাংশই পাপাচারী”[সূরা আল হাদিদ-১৬]


আল্লাহ আমাদের আমাদের জন্য কোরআন পাঠিয়েছেন এবং


আল্লাহ উত্তম বাণী তথা কিতাব নাযিল করেছেন, যা সামঞ্জস্যপূর্ণ, পূনঃ পূনঃ পঠিত এতে তাদের লোম কাঁটা দিয়ে উঠে চামড়ার উপর, যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে, এরপর তাদের চামড়া অন্তর আল্লাহর স্মরণে বিনম্র হয় এটাই আল্লাহর পথ নির্দেশ, এর মাধ্যমে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন আর আল্লাহ যাকে গোমরাহ করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই” [কুরআনঃ ৩৯-১৬]

The key to solution is right here, in our hearts...


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

অন্য মুসলিমের প্রতি শ্ত্রুতা পোষণ করার ব্যাপারটা কেন জানি আজ মুসলিমদের মধ্যেই মহামারি আকার ধারণ করেছে। একে অন্যের প্রতি ঘৃণা, ঈর্ষা, বিদ্বেষ, কারো নামে অন্যের কাছে বিষাদাগার ছড়ানো, কারো মতের বিরোধিতা করতে গিয়ে তুলকালাম কান্ড বাঁধিয়ে দেওয়া, মানুষের চরিত্র হননের চেষ্টা করা! এবং দিনশেষে উম্মাহর ঐক্যের জন্য আহাজারি! খুবই জগন্য ব্যাপার স্যাপার! ব্যক্তিগতভাবে আমি আপনি কেউ ভুলের বাইরে নই। বুকে হাত দিয়ে কেউ বলতে পারব না যে, আমি আপনি পাপের মধ্যে নেই। বলতে পারব না যে আমি আপনি সবসময় আল্লাহ্‌র আদেশ মেনে চলেছি। নিজেদের জাহিল জীবনের কথা মনে পড়লে লজ্জায় একেক জনের মাথা নিচু হয়ে যায়। তারপরও যে ইসলামকে আপনি আমি জীবন ব্যবস্থা হিসেবে নিয়েছি তা কেন আমাদের জন্য ফলাফল বয়ে আনতে পারছে না?  কারণ এখনো আমরা অন্তর থেকে কিছু আবর্জনা পরিষ্কার করতে পারিনি। ওয়াল্লাহি নিজেদের অন্তরকে শয়তানের জন্য উন্মুক্ত করে আমরা কখনো ইসলাম থেকে উপকৃত হতে পারবনা। এর সমাধান কোথায়? এখানে, এই যে আমাদের অন্তরে! The key to solution is right here, in our hearts…

একটি নিয়ম : তারিক মেহান্না

 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

এখানে আসার পরপরই আমাকে 'ইনমেইট হ্যান্ডবুক( Inmate Handbook)' নামে একটা বই ধরিয়ে দেওয়া হয়। এটা মূলত এই জেলের নিয়মকানুন নিয়ে পঞ্চাশ পৃষ্ঠার একটা বই। বইটির মধ্যে একটি নিয়ম ছিল এমন:
'পরিষ্কার ও টানটান করে বিছানা গোছাতে হবে। বিছানার চাদর কুঁচকে থাকা চলবে না। মাথার দিক থেকে মোটামোটি ১৬ ইঞ্চি পর্যন্ত চাদর বিছিয়ে বাকিটুকু গুটিয়ে রাখতে হবে। সব বিছানা সকাল ৭.৩০ মিনিটের মধ্যে গুছিয়ে পর্যবেক্ষণের জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে।'

রিদ্দা বা দ্বীন ত্যাগ: কারণ এবং প্রতিকার (তারিক মেহান্নার কিছু উপদেশ)


(আমাদের কারাবন্দী ভাই তারিক মেহান্নার যে কয়টা অসাধারণ লেখা আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে এবং নিজের ঈমানের ব্যাপারে চিন্তিত করেছে এই লেখাটি তার একটি। আজ সকালে এক দ্বীনি ভাইয়ের সাথে প্রথম দেখা। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলছিলেন তিনি যার কাছ থেকে দ্বীনের দাওয়াহ পেয়েছিলেন সেই ভাইটিই  আর দ্বীনের উপর নেই! এরকম ব্যাপার খুবই সাধারণ। হঠাৎ করে দ্বীনে আসা, হঠাৎই আবার দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাওয়া, দ্বীনের উচ্চমার্গীয় বিষয় নিয়ে মাতামাতিতে লিপ্ত থেকে দ্বীনের মূল আবেদন থেকে দূরে সরে যাওয়া, নিজের ভেতর ইসলামকে ধারণ করতে না পারা এরকম অনেক কারণে আমাদের অনেক ভাই বোন দ্বীন প্র্যাকটিস করা ছেড়ে দেন জীবনের একটা সময়ে গিয়ে। যা খুবই দুঃখজনক এবং হতাশার। সেরকম একটা গুরুত্বপুর্ন ইশ্যু এবং তার জন্য কিছু উপদেশ নিয়ে তারিক মেহান্নার এই লেখা। আপনাদের কাছে আমার আন্তরিক চাওয়া থাকবে আপনারা লেখাটা পড়বেন এবং অনুধাবন করার চেষ্টা করবেন এবং অবশ্যই উপদেশগুলো মানার চেষ্টা করবেন ইনশাআল্লাহ্‌। আল্লাহ আমাদের ভাই তারিক মেহান্নাকে জালিমের কারাগার থেকে মুক্ত করুন। ইসলামের জন্য আমাদের এই ভাই যে ত্যাগ আর কষ্ট সহ্য করে চলেছেন তার বিনিময়ে আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। আমীন।)